কেন আপনি হতাশ??
হতাশার ৩টি কারনঃ (১) নিজের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে অগাধ বিশ্বাসের অভাবে তথা আত্মবিশ্বাসের অভাবে।
(২) অপরিসীম ধর্যের অভাবে।
(৩) কর্ম সম্পাদন কৌশলকে আবিষ্কার করতে না পারলে অথবা অন্যের আবিষ্কৃত কৌশলে চলতে গিয়ে সেটা আয়ত্তে না আনতে পারলে।
এবার নিজেই বোঝতে পারবেন, মানুষ কথন হতাশ হয়?
পৃথিবীতে যতোটা সমস্যা রয়েছে তার চেয়ে বেশী রয়েছে সমাধানের পথ।
যারা এই পৃথিবীতে
বের্থ ও পরাজিত, তাদের জন্য একটি পরোক্ষ সুসংবাদ দিয়েছেন বেনজামিন
ফ্রাঙ্কলিন। জনাব ফ্রাঙ্কলিন বলেন, সফলতা অনেক সময় মানুষের জীবনে পতনকে
ডেকে আনে। সফল ও সার্থক লোকদের সামনে সাধারনত যা অপেক্ষা করে, সেটা হচ্ছে
স্থবিরতা ও নতুন করে আশা ভঙ্গের সম্ভাবনা। অথচ বের্থ, অসার্থক ও
হতাশাগ্রস্থরা যদি বারংবার বিফলতার পর পুনঃ পদক্ষেপ নেয় তবে তারা সার্থকতার
সর্নসিড়ি খুঁজে পাবে এবং পেয়ে থাকে। জোসেফ এডিসন, হতাশা গ্রস্থদের জন্য
একটা জবরদস্থ মজার কথা শুনিয়েছেন। এডিসন নিজেই অনেক বার ব্যর্থতার শিকার
হয়েছেন। এমনভাবে ব্যর্থ খুব কম লোককই হতে দেখা যায়। অথাচ এডিসন থেমে যায়নি
বা হতাশার শিকারও হননি। এডিসন বলছেন, কোন মানুসেরই হতাশ হবার কারন নেই যদি
সে জীবনের ক্ষেত্রে ৪টি বিষয়ে মনোযোগী হয়। কি সেই ৪ টি বিষয়?যেটাকে জীবনে
গ্রহন করে এডিসন বিজয়ের মালা পেয়েছেন এবং হতাশাগ্রস্থদের জন্য উপদেশ
দিয়েছেন?
(১) অধ্যবসায়কে কর তোমার অন্তরঙ্গ সুহৃদ।
(২) অভিজ্ঞতাকে কর তোমার বিজ্ঞ মন্ত্রনাদাতা।
(৩) সতর্কতাকে কর তোমার অগ্রজ।
(৪) আশাকে কর তোমার তত্তাবদায়ক প্রতিভা।
এই চারটি বিষয়কে যিনি নিজের জীবনে আকড়ে ধরতে পারেন ব্যর্থতা তাঁকে দেখে পালাবে, হতাশা তার ধারে কাছেও ঘেষতে পারবেন না।
হতাশাগ্রস্থরা হচ্ছে যারা বুদ্ধিমান!!! অবাক হচ্ছেন??
হতাশ লোকের উপর
একটি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের ছাত্ররা যখন জরীপ কাজ চালাচ্ছিলো, তখন একজন
ক্রাইসোসটাম নামক তরুনের সাথে আলাপ হয়েছিলো। ক্রাইসোসটাম একটি কারখানায় কাজ
করতো। তার বেতন ছিলো নামকে ওয়াস্তে একটি বেতন- যে বেতনে কোন সাধারন
ব্যক্তিই সহজভাবে জীবনযাপন করতে পারে না। তার কাজ ছিলো গীর্জার বড় ঘড়ি
দেখে, লোহার হাতুড়ী দিয়ে মস্তবড় একটা তামার থাল পিটিয়ে সময়ের সংকেত দেয়া।
কারখানা জুরে তখন লক আউট স্ট্রাইক চলছে। সবাই বেতন ও বোনাসের জন্য সংগ্রাম
চালাচ্ছে। ক্রাইসসটম ছিল এ বিষয়ে একদম নির্বিকার। অথচ তার স্ত্রী, পুত্র,
কন্যাসহ পরিবারের অবস্তা ছিলো সবচেয়ে দুঃখজনক ও মারাত্মক। ক্রাইসোসসটমকে
জনৈক ছাত্র জিজ্ঞেস করলো,
ছাত্রঃ তোমার বেতন বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা নেই কেন?
ক্রাইসোসসটমঃ হাসতেছে... হা হা হা...
ছাত্রঃ তোমার তো আরো অনেক টাকা দরকার- তাই না?
ক্রাইসোসটম কিছুক্ষন হা করে তাকিয়ে থেকে প্রশ্নটা বোঝার চেস্টা করলো পরে হেসে বললো,
ক্রাইসোসসটমঃ অনেক টাকা নয়। আজকের জন্য একটা পাউরুটি কেনার টাকা হলেই হবে। আপনারা সেই টাকা নিবেন নাকি?
ছাত্রটি অবাক হয়ে জানতে চাইলো,
ছাত্রঃ এভাবে তোমার মূল সমস্যার সমাধান হবে কি? তোমার আরো অনেক দাবি থাকা উচিত।
ক্রাইসোসটম হেসে বলল,
ক্রাইসোসসটমঃ না, আমার দাবী নেই।
আসলেই কি,
ক্রাইসোসটম খুবই ভাগ্যনিবেদিত ও ধর্মপ্রান ব্যক্তি ছিলো? উঃ না, ক্রাইসোসটম
ছিলো একটা নির্বোধ। সম্পুর্ন নির্বোধ এবং এই ধরনের সম্পুর্ন নির্বোধ
লোকেরা কখনই হতাশার শিকার হয় না।
দুই শ্রেনীর লোকেরা কখনই হতাশার শিকার হয় না,
(১) সম্পুর্ন নির্বোধ
(২) প্রকৃত ধার্মিক শ্রেনির।
আজ এই পর্যন্তই............